জ্ঞানের আলো

প্রযুক্তি, শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও খবর

আতোভাই পরিচালিত ব্লগ

নতুন ভোটার হতে ফর্ম ৬ কীভাবে পূরণ করবেন

⚠️ এই পৃষ্ঠাটি আপনাকে Atovia-র অংশীদার এবং অ্যাফিলিয়েট বাজারগুলির সাথে সংযুক্ত করে। এই লিঙ্কগুলির মাধ্যমে করা কার্যকলাপের জন্য আমরা অ্যাফিলিয়েট অংশীদারদের থেকে কমিশন পেতে পারি। ছাড়ের অফারগুলি নীতি অনুযায়ী যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে! নিশ্চিত থাকুন, আপনার জন্য কোনো অতিরিক্ত খরচ নেই! আমরা আশা করি এটি আপনার সঠিক আইটেম খুঁজে পেতে সময় বাঁচাবে!

আঠারো বছর হয়ে গেছে, কিংবা আর কয়েক মাসেই হবে, অথচ ভোটার তালিকায় নাম নেই। তাহলে আপনার দরকার নির্বাচন কমিশনের ফর্ম ৬।

এই লেখায় দেখবেন কে আবেদন করতে পারেন, কোন কোন নথি লাগে, ঘরগুলো কীভাবে ভরবেন এবং ফর্ম কোথায় জমা দেবেন। শেষে ফর্ম ৭ আর ৮-এর সঙ্গে পার্থক্যও পরিষ্কার করা হয়েছে।

এক নজরে জরুরি কথা
  • ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, বা কয়েক মাসের মধ্যে হবে, এমন ব্যক্তি ফর্ম ৬ দিতে পারেন।
  • আবেদন সাধারণত বাসস্থানের নির্বাচনী এলাকার নির্বাচক নিবন্ধন আধিকারিকের (ERO) নামে লিখতে হয়।
  • ছবির মাপ ৪.৫×৩.৫ সেমি, সাদা পটভূমি, সামনে থেকে তোলা, সইবিহীন।
  • ঠিকানা বদল বা তথ্য সংশোধনে ফর্ম ৮, আর নাম বাদ দিতে বা আপত্তি জানাতে ফর্ম ৭ লাগে।

ফর্ম ৬ কী এবং কখন লাগে

ফর্ম ৬ হলো ভোটার তালিকায় প্রথমবার নাম তোলার আবেদনপত্র। ভারতের নির্বাচন কমিশনের পোর্টাল একে নতুন ভোটার নিবন্ধনের ফর্ম হিসেবেই চিহ্নিত করেছে।

তাই জীবনে প্রথমবার ভোটার হতে চাইলে এই ফর্মই আপনার পথ। নাম আগে থেকে তালিকায় থাকলে অন্য ফর্মের কথা ভাবতে হবে, সেটা পরে আলাদা করে বলছি।

কারা ফর্ম ৬ জমা দিতে পারেন

যাঁর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, কিংবা আর কয়েক মাসের মধ্যে হবে, তিনি এই ফর্ম দিতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের সরকারি পাতায় এভাবেই বলা আছে।

ফর্ম হাতে এক তরুণ ভোটার

শর্ত একটাই, আপনাকে ভারতের ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তুলতে চাওয়া ব্যক্তি হতে হবে।

আমার বয়স এখনও ১৮ হয়নি, তবু কি আবেদন করা যায়?

সরকারি পাতা অনুযায়ী, কয়েক মাসের মধ্যে ১৮ হলে আবেদন করা যায়। ঠিক কত মাস আগে থেকে, সেটা এই লেখায় নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না, তাই পোর্টালে বা স্থানীয় নির্বাচন দপ্তরে দেখে নিন।

আর যাঁর নাম আগে থেকেই তালিকায় আছে, তাঁর জন্য এই ফর্ম নয়। নির্বাচন কমিশনের ফর্ম-তালিকায় ফর্ম ৬ শুধু নতুন নিবন্ধনের জন্য রাখা হয়েছে।

ভোটার হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে আলোচনারত দুই তরুণ

আবেদনের আগে হাতে রাখার নথির তালিকা

ফর্ম ভরতে বসার আগে পাঁচটা জিনিস গুছিয়ে নিলে কাজ অনেক সহজ হয়। এগুলো সরকারি ফর্ম ও নির্দেশিকা থেকে নেওয়া।

  • জন্মতারিখের প্রমাণ, যেমন জন্ম শংসাপত্র বা পাসপোর্ট।
  • ঠিকানার প্রমাণের স্ব-প্রত্যয়িত কপি।
  • পাসপোর্ট মাপের সাম্প্রতিক রঙিন ছবি।
  • মোবাইল নম্বর ও ইমেল, থাকলে।
  • আধার নম্বর, থাকলে। এটি ঐচ্ছিক।

তালিকার শেষ দুটি না থাকলেও আটকে যাবেন না। ফর্মে এই দুই ঘরের জন্যই আলাদা ব্যবস্থা আছে, নিচে বিস্তারিত দেখুন।

ফর্ম ৬-এর প্রতিটি ঘর কীভাবে পূরণ করবেন

ফর্মটি ইংরেজিতে বা আপনার রাজ্যের সরকারি ভাষায় ভরা যায়, আর আবেদন যায় নির্বাচক নিবন্ধন আধিকারিকের (ERO) কাছে। ফর্ম ভরার সময় পরিষ্কার হাতে বা স্পষ্ট করে লিখুন।

টেবিলে সাজানো আবেদনের নথি

নাম কোন ভাষায় লিখব?

নির্দেশিকা বলছে, নাম রাজ্যের ভাষা ও ইংরেজি, দুই ভাষাতেই লিখুন। শুধু এক ভাষায় লিখলে ব্যবস্থা নিজে থেকে অন্য ভাষায় লিপ্যন্তর করে, আর তাতে বানানের ভুল ঢুকে যেতে পারে।

তাই পশ্চিমবঙ্গের কেউ হলে বাংলা ও ইংরেজি, দুটোতেই নিজের নাম লিখে ফেলুন।

নির্বাচনী এলাকার নাম বা নম্বর না জানলে কী করব?

ঘাবড়াবেন না। এই কারণে আবেদন বাতিল হয় না, আর ERO আপনাকে সাহায্য করতে পারেন।

ফর্ম পূরণের ক্লোজআপ

পরিবারের সদস্যের তথ্য ও যোগাযোগের ঘর

ফর্মে আপনার পরিবারের সদস্যের তথ্যের জন্য নির্ধারিত ঘর আছে। সেগুলো ফর্মে যেভাবে চাওয়া হয়েছে সেভাবেই পূরণ করুন।

মোবাইল নম্বর ও ইমেলের ঘর আপনার নিজের বা ফর্মে উল্লিখিত আত্মীয়ের হতে পারে। দুটোই ‘সম্ভব হলে’ দিতে বলা হয়েছে, বাধ্যতামূলক নয়।

ঠিকানা ও পিন কোড

পূর্ণ ঠিকানা ও পিন কোড লিখতে হবে। আপনি পড়ুয়া হলে অভিভাবকের ঠিকানা দিতে পারেন, অথবা যেখানে সত্যিই থাকেন সেই হোস্টেল বা মেসের ঠিকানাও দেওয়া যায়।

নথির কপি স্ব-প্রত্যয়িত করা হচ্ছে

বয়স ও ঠিকানার প্রমাণ কোনগুলো চলে

বয়সের প্রমাণ হিসেবে ফর্মে কয়েকটি নথির নাম দেওয়া আছে, আর ঠিকানার প্রমাণ দিতে হয় স্ব-প্রত্যয়িত কপি জমা দিয়ে। নিচের সারণিতে দুটোই একসঙ্গে দেখুন।

প্রমাণের ধরন কোন কাজে লাগে মন্তব্য
জন্ম শংসাপত্র জন্মতারিখ ফর্মের তালিকায় আছে
আধার কার্ড জন্মতারিখ ফর্মের তালিকায় আছে
প্যান কার্ড জন্মতারিখ ফর্মের তালিকায় আছে
ড্রাইভিং লাইসেন্স জন্মতারিখ ফর্মের তালিকায় আছে
১০ম বা ১২শ শ্রেণির শংসাপত্র জন্মতারিখ জন্মতারিখ লেখা থাকতে হবে
ভারতীয় পাসপোর্ট জন্মতারিখ ফর্মের তালিকায় আছে
আবেদনকারী, বাবা-মা বা স্বামী/স্ত্রীর নামের নথি ঠিকানা স্ব-প্রত্যয়িত কপি জমা দিতে হয়

ঠিকানার ক্ষেত্রে কোন কোন নথি গ্রহণযোগ্য, তার পুরো তালিকা এখানে দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ সরকারি ফর্মে বা রাজ্যের নির্বাচন দপ্তরের নির্দেশে মিলিয়ে নিন।

ছবি ও আধার নিয়ে কী জানা দরকার

আধার নম্বর না থাকলেও ফর্ম ভরা যায়, কারণ ফর্মে নম্বর না দিতে পারার জন্য আলাদা বিকল্প আছে। সেটি চিহ্নিত করে দিলেই চলে।

সাদা পটভূমিতে পাসপোর্ট মাপের ছবি তোলা

🛒 প্রস্তাবিত পণ্য

AliExpress 🛒 প্রস্তাবিত পণ্য

ছবির ক্ষেত্রে নিয়ম একটু কড়া, তাই ছবি তোলার আগে এই তালিকাটা দেখে নিন।

  • সাম্প্রতিক তোলা রঙিন ছবি।
  • সাদা পটভূমি, সামনে থেকে মুখ স্পষ্ট।
  • মাপ ৪.৫×৩.৫ সেমি।
  • ছবিতে কোনো সই থাকবে না।

ফর্ম ও প্রমাণ কোথায় কীভাবে জমা দেবেন

নথি সমেত পূরণ করা ফর্ম ERO বা AERO-র কাছে সরাসরি জমা দেওয়া যায়, ডাকে পাঠানো যায়, অথবা এলাকার BLO-র হাতেও তুলে দেওয়া যায়। এই তথ্য দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের FAQ থেকে নেওয়া, তাই আপনার রাজ্যের নিয়ম একবার মিলিয়ে নেবেন।

এলাকার কর্মীর হাতে ফর্ম তুলে দেওয়া
  • ফর্মের সব ঘর পূরণ করুন এবং ঘোষণা অংশ পড়ে সই করুন।
  • ছবি আর স্ব-প্রত্যয়িত নথির কপি ফর্মের সঙ্গে জুড়ুন।
  • সরাসরি, ডাকে বা BLO-র মাধ্যমে জমা দিন।
  • অনলাইনে আবেদন করলে প্রমাণের কপিও আপলোড করুন।

জমা দেওয়ার পর কিছুদিন বাদে আপনার আবেদনের অবস্থা দেখে নিন। এর জন্য সরকারি পোর্টালই ভরসা।

ফর্ম ৬, ৭ ও ৮-এর পার্থক্য

তিনটি ফর্মের কাজ আলাদা, আর ভুল ফর্মে আবেদন করলে সময় নষ্ট হয়। এক নজরে সারণিটা দেখে নিন।

পাশাপাশি রাখা তিনটি ভিন্ন ফর্ম
ফর্ম কখন লাগে উদাহরণ
ফর্ম ৬ নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন প্রথমবার ১৮ বছর পূর্ণ হলে
ফর্ম ৭ তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা আপত্তি জানানো নামটি তালিকা থেকে বাদ দিতে চাইলে
ফর্ম ৮ ঠিকানা বদল, তথ্য সংশোধন, কার্ড প্রতিস্থাপন অন্য এলাকায় চলে গেলে বা নামের বানান ঠিক করতে হলে

তাই আগে অন্য এলাকায় নাম থাকলে নতুন করে ফর্ম ৬ নয়, ফর্ম ৮ দেখুন।

যেখানে ভুল হয়: সাধারণ সমস্যা ও এড়ানোর উপায়

সবচেয়ে বড় ভুল ঘোষণা অংশে অসত্য তথ্য দেওয়া। ফর্মের নির্দেশিকা স্পষ্ট জানিয়েছে, মিথ্যা বললে শাস্তি হতে পারে, তাই ঠিকানা, যোগ্যতা ও আগের নিবন্ধনের তথ্য সত্য লিখুন।

ফর্মের ভুল খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে

এ ছাড়া এই তিনটি ভুল সচরাচর দেখা যায়।

  • নামের বানান একেক জায়গায় একেক রকম।
  • প্রমাণের কপি অস্পষ্ট বা স্ব-প্রত্যয়িত নয়।
  • ছবির মাপ বা পটভূমি নিয়ম মেনে নয়।

আরেকটা কথা। পুরনো FAQ আর সাম্প্রতিক ফর্মের খুঁটিনাটি নথি-নির্দেশ হুবহু না-ও মিলতে পারে। তাই সর্বশেষ সরকারি ফর্ম ও আপনার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নির্দেশ মিলিয়ে নিন।

সরকারি সহায়তা কাউন্টারে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হচ্ছে

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

আধার না থাকলে কি আবেদন চলবে?

হ্যাঁ। ফর্মে আধার নম্বর দিতে না পারার বিকল্প আছে, সেটি চিহ্নিত করুন।

ফর্ম কোন ভাষায় ভরব?

ইংরেজিতে বা আপনার রাজ্যের সরকারি ভাষায়। নামটা দুই ভাষাতেই লেখা ভালো।

নির্বাচনী এলাকার নাম না জানলে?

এই কারণে আবেদন বাতিল হয় না। ERO আপনাকে সাহায্য করতে পারেন।

ছাত্রছাত্রীরা কোন ঠিকানা দেবেন?

অভিভাবকের ঠিকানা, অথবা যেখানে বাস্তবে থাকেন সেই হোস্টেল বা মেসের ঠিকানা।

সরকারি সূত্রের নথির স্তূপ

ঠিকানা বদলালে কোন ফর্ম?

ফর্ম ৮। ফর্ম ৬ শুধু নতুন নিবন্ধনের জন্য।

জমা দেওয়ার পর কী করব?

কিছুদিন পর সরকারি পোর্টালে আবেদনের অবস্থা দেখে নিন।

সূত্র ও তথ্যসূত্র

এই লেখার তথ্য নিচের সরকারি সূত্র থেকে নেওয়া। নিয়ম বদলাতে পারে, তাই আবেদনের আগে সর্বশেষ ফর্ম দেখে নিন।

আজই একটা কাজ করুন: জন্মতারিখ ও ঠিকানার প্রমাণের স্ব-প্রত্যয়িত কপি আর পাসপোর্ট মাপের ছবি এক জায়গায় গুছিয়ে রাখুন। তারপর সরকারি পোর্টালে গিয়ে সর্বশেষ ফর্মটি দেখে নিন।

সরকারি ভোটার পোর্টালে যান

আরও তুলনা ও কেনাকাটার গাইড চান?

Atovia-তে আরও দেখুন →

আমাদের সম্প্রদায়ে যোগদান করুন

মন্তব্য করুন