জ্ঞানের আলো

প্রযুক্তি, শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও খবর

আতোভাই পরিচালিত ব্লগ

খবরের ভালো হেডলাইন কীভাবে লিখবেন: সহজ গাইড

⚠️ এই পৃষ্ঠাটি আপনাকে Atovia-র অংশীদার এবং অ্যাফিলিয়েট বাজারগুলির সাথে সংযুক্ত করে। এই লিঙ্কগুলির মাধ্যমে করা কার্যকলাপের জন্য আমরা অ্যাফিলিয়েট অংশীদারদের থেকে কমিশন পেতে পারি। ছাড়ের অফারগুলি নীতি অনুযায়ী যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে! নিশ্চিত থাকুন, আপনার জন্য কোনো অতিরিক্ত খরচ নেই! আমরা আশা করি এটি আপনার সঠিক আইটেম খুঁজে পেতে সময় বাঁচাবে!

নতুন রিপোর্টার বা ব্লগার অনেক সময় পুরো খবর লিখে ফেলার পরেও হেডলাইনে এসে আটকে যান। প্রথম কথাটা সহজ: সম্পাদকীয় নির্দেশিকাগুলো বলে, হেডলাইনকে খবরের কেন্দ্রীয় ভাবনা সংক্ষেপে তুলে ধরতে হবে এবং পাঠককে পড়ে যাওয়ার একটা কারণ দিতে হবে।

এই লেখায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও সংবাদকক্ষের প্রকাশিত গাইড এবং একটি গবেষণা দেখব। কোন নিয়ম সবার জন্য আর কোনটা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের, সেটাও আলাদা করে বলব।

মূল কথাগুলো
  • নির্ভুলতা আগে: চালাকি বা শব্দখেলার চেয়ে হেডলাইনের সঠিকতা বেশি জরুরি।
  • শব্দসংখ্যা, বর্তমান কাল ও সক্রিয় ক্রিয়ার নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই এগুলোকে সার্বজনীন নিয়ম ভাববেন না।
  • একটি গবেষণায় (দুটি অনলাইন পরীক্ষা, N=629 ও N=1,674) নির্ভুল হেডলাইন ও পূর্ণ লেখা একসঙ্গে দেখালে ফল সবচেয়ে ভালো ছিল; তবে এটি মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর, সব পাঠকের জন্য সাধারণীকরণ চলে না।
  • হেডলাইন লেখার পরে মূল লেখার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন, আর শেষে বানান ও দ্ব্যর্থকতা যাচাই করুন।

হেডলাইনের আসল কাজ কী?

হেডলাইন খবরের মূল ভাবনা সংক্ষেপে তুলে ধরে এবং পাঠককে পড়া চালিয়ে যাওয়ার কারণ দেয়। Aalto University-র নিউজ লেখার গাইডও এই কথাই বলে (S1)।

অর্থাৎ হেডলাইন হলো খবরের দরজা। দরজা দেখে ভেতরে কী আছে বোঝা গেলে পাঠক ঢোকেন।

হেডলাইনে কতটা তথ্য রাখা যায়?

সব তথ্য ঢোকানোর দরকার নেই। মূল ভাবনাটুকু রাখলেই চলে, বাকিটা মূল লেখায় থাকবে।

Aalto-র গাইড আরও একটা কথা বলে: মূল লেখায় হেডলাইন বা সাবহেডের বাক্য হুবহু দোহরাবেন না (S1)। হেডলাইন পড়ে আসা পাঠক একই কথা আবার পড়তে চান না।

ডেস্কে ছাপানো খবরের খসড়া পড়ছেন একজন সাংবাদিক

স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট হেডলাইন বানানোর উপায়

স্পষ্ট হেডলাইন মানে যেখানে কে, কী করেছে, তা এক নজরে বোঝা যায়। St. Petersburg College-এর গাইড বলে, হেডলাইন হবে স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট, আর অচিহ্নিত সর্বনাম, অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি ও উদ্দেশ্যহীন চালাকি এড়াতে হবে (S4)।

মার্কিন সেনাবাহিনীর ডিজিটাল কনটেন্ট নির্দেশিকা স্পষ্টতা, প্রাসঙ্গিকতা ও সংক্ষিপ্ততার কথা বলে, আর সংক্ষিপ্ত রূপ সীমিত ব্যবহার করতে বলে (S7)। তবে এটি Army.mil-এর নিজস্ব কনটেন্ট নির্দেশিকা।

St. Petersburg College-এর গাইডে ৫ থেকে ১০ শব্দের পরামর্শ আছে। এটি ওই গাইডের মানদণ্ড, সব সংবাদমাধ্যমের জন্য বাঁধা নিয়ম নয়।

হেডলাইনের অস্পষ্ট শব্দ লাল কলমে ঘিরে দিচ্ছেন সম্পাদক

হেডলাইন লিখে নিজেকে এই প্রশ্নগুলো করুন:

  • কে বা কী খবরের কেন্দ্রে, তা কি স্পষ্ট?
  • “এটি”, “তিনি”, “তারা” জাতীয় শব্দ কার কথা বলছে, তা কি হেডলাইনেই বোঝা যায়?
  • একই কথা দুবার বলা হয়েছে কি?
  • কোনো শব্দ শুধু চালাকি দেখানোর জন্য বসানো হয়েছে কি?
  • সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করলে সাধারণ পাঠক কি তা চেনেন?

কর্তা-ক্রিয়ার গঠন, সক্রিয় ক্রিয়া ও বর্তমান কাল

অনেক গাইড হেডলাইনে কর্তা ও ক্রিয়া রাখার পরামর্শ দেয়, কারণ এতে হেডলাইন একটি সম্পূর্ণ ভাবনা হয়ে ওঠে। Michigan State University-র জার্নালিজম স্কুল কর্তা-ক্রিয়া বা কর্তা-ক্রিয়া-কর্ম গঠনকে সাধারণ ছক বলে, আর বর্তমান কাল ও ছোট ক্রিয়ার পরামর্শ দেয় (S5)।

University of Houston-Downtown-এর ছাত্র-নিউজরুম গাইডও হেডলাইনকে সম্পূর্ণ ভাবনা বানাতে এবং সক্রিয় ক্রিয়া ব্যবহার করতে বলে (S2)। ওই গাইডে বাক্যের মতো বড় হাতের অক্ষরের (sentence case) নিয়মও আছে, কিন্তু বাংলা লিপিতে বড় হাতের অক্ষর নেই, তাই সেটি বাংলায় প্রযোজ্য নয়।

সংবাদকক্ষে ল্যাপটপে হেডলাইনের খসড়া মেলাচ্ছেন দুই সম্পাদক

নীতির প্রয়োগ (লেখকের পরামর্শ, সূত্রের দাবি নয়): বাংলা হেডলাইনেও কে কী করছে তা সরাসরি বললে পড়তে সুবিধা হয়। কর্তাকে আড়াল করে দীর্ঘ বাক্য বানানোর চেয়ে ছোট ক্রিয়ায় মূল কথাটা বলুন।

প্রতিষ্ঠানভেদে নিয়ম কেন আলাদা?

Aalto-র গাইড ইংরেজি হেডলাইনে সক্রিয় ক্রিয়া ও বর্তমান কাল সাধারণত ব্যবহারের কথা বলে, কিন্তু এটি ওই প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকীয় নির্দেশ (S1)। প্রতিটি সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব স্টাইলবুক থাকে।

তাই নিজের প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিকা থাকলে সেটাই আগে মানুন। না থাকলে এই নীতিগুলো একটি ভালো শুরু।

দুটি মনিটরে হেডলাইন ও পূর্ণ লেখা মিলিয়ে দেখছেন রিপোর্টার

🛒 প্রস্তাবিত পণ্য

AliExpress 🛒 প্রস্তাবিত পণ্য

নির্ভুলতা: হেডলাইন কি লেখার সঙ্গে মেলে?

ভালো হেডলাইন তখনই, যখন সেটি মূল লেখার সঙ্গে হুবহু মেলে। Columbia University Journalism-এর হেডলাইন-পাঠ বলে, হেডলাইন শুধু সরাসরি বলা তথ্যে নয়, যা ইঙ্গিত করে সেই অর্থেও নির্ভুল হতে হবে (S3)।

একই পাঠ বলে, হেডলাইন সাধারণ পাঠকের বোধগম্য হবে এবং লেখার সুরের সঙ্গে মিলবে। রসিকতা বা শব্দখেলার চেয়ে নির্ভুলতাকে আগে রাখতে বলা হয়েছে (S3)।

এ নিয়ে ২০২১ সালের একটি পিয়ার-রিভিউড গবেষণা আছে। মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের দুটি অনলাইন পরীক্ষায় (N=629 ও N=1,674) নির্ভুল হেডলাইন ও পূর্ণ লেখা একসঙ্গে দেখানো অবস্থায় ধারণা ও বোধগম্যতার ফল সবচেয়ে ভালো ছিল (S6)। গবেষণার পরিসর সীমিত, তাই সব পাঠকের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি খাটবে, এমন দাবি করা যায় না।

পাঠানোর আগে এই চেকলিস্ট দেখে নিন:

অতিরঞ্জিত ট্যাবলয়েড পাতা ও সাদামাটা সংবাদপত্রের পাতা পাশাপাশি
  • হেডলাইনের প্রতিটি দাবি মূল লেখায় আছে কি?
  • হেডলাইন থেকে পাঠক এমন কিছু বুঝবেন কি, যা লেখায় নেই?
  • হেডলাইনের সুর আর খবরের সুর কি এক?
  • সাধারণ পাঠক কি কোনো টীকা ছাড়াই বুঝবেন?
  • দ্ব্যর্থক কোনো শব্দ আছে কি?

কৌতূহল জাগাতে গিয়ে অতিরঞ্জন এড়াবেন কীভাবে?

কৌতূহল জাগানো দোষের নয়, কিন্তু হেডলাইন যেন মূল লেখা যতটুকু সমর্থন করে তার বাইরে না যায়। প্রেক্ষাপট কেটে ফেলে চমক তৈরি করলে নির্ভুলতার নীতি ভাঙে (S3, S6)।

একটা কথা পরিষ্কার করা দরকার। ছোট বা চমকপ্রদ হেডলাইন নিশ্চিতভাবে বেশি ক্লিক বা ভালো ফল দেয়, এমন কোনো সূত্র আমাদের যাচাইকৃত তথ্যে নেই। তাই সে ধরনের কোনো ফর্মুলা এখানে দেওয়া হচ্ছে না।

সার্চ ফলাফল দেখতে দেখতে ল্যাপটপে লিখছেন একজন

কাল্পনিক উদাহরণ (বাস্তব কোনো ঘটনা বা প্রতিষ্ঠান নয়): ধরুন একটি লেখায় বলা হয়েছে, শহরের একটি পাঠাগারে সপ্তাহান্তে খোলার সময় এক ঘণ্টা বাড়ছে।

বৈশিষ্ট্য অতিরঞ্জিত হেডলাইন (কাল্পনিক) নির্ভুল হেডলাইন (কাল্পনিক)
হেডলাইন শহরের পাঠাগারে বিরাট পরিবর্তন, সব বদলে যাচ্ছে পাঠাগার সপ্তাহান্তে এক ঘণ্টা বেশি খোলা থাকবে
তথ্যের সমর্থন লেখা এত বড় দাবি সমর্থন করে না লেখার মূল তথ্যের সঙ্গে মেলে
পাঠকের বোধ কী বদলাচ্ছে বোঝা যায় না কী ও কখন, দুটোই বোঝা যায়
আস্থা লেখা পড়ে হতাশ হওয়ার ঝুঁকি প্রত্যাশা ও লেখা মেলে

অনলাইন সার্চের জন্য মূল শব্দ কীভাবে বসাবেন?

হেডলাইনে এমন মূল শব্দ রাখুন, যা পাঠক ও সার্চ ইঞ্জিন দুজনেই বোঝে। Michigan State University-র গাইড একই সঙ্গে সতর্ক করে, শব্দ বেশি ঠেসে দিয়ে হেডলাইন পড়ার অযোগ্য করা চলবে না (S5)।

পাঠযোগ্যতার কৌশল (লেখকের পরামর্শ): মূল শব্দ হেডলাইনের শুরুর দিকে আনলে পাঠক চট করে বিষয় ধরতে পারেন। এটি শুধু পড়ার সুবিধার কথা, সার্চ র‍্যাঙ্কিং বাড়ার কোনো নিশ্চয়তা নয়।

কাঠের ডেস্কে সংশোধিত হেডলাইনের খসড়ার স্তূপ ও কফির কাপ

লেখার পরে হেডলাইন পরিমার্জনের ধাপ

প্রথম খসড়ায় থেমে যাবেন না। Columbia ও Michigan State দুটি গাইডই তথ্য, শব্দচয়ন ও পাঠযোগ্যতা আবার দেখার সম্পাদনা-প্রক্রিয়ার কথা বলে (S3, S5)।

  1. মূল লেখা শেষ করে হেডলাইন আবার পড়ুন।
  2. হেডলাইনের প্রতিটি দাবি লেখার সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
  3. অচিহ্নিত সর্বনাম ও অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি ছেঁটে ফেলুন।
  4. মূল শব্দ আছে কিনা এবং ঠেসে দেওয়া হয়নি তো, দেখুন।
  5. শেষে বানান ভুল ও দ্ব্যর্থক অর্থ যাচাই করুন (S3)।

সাধারণ প্রশ্ন

হেডলাইনে কি সব তথ্য দিতে হবে?

না। মূল ভাবনাটুকুই যথেষ্ট, বাকি তথ্য মূল লেখায় যাবে (S1)।

টেবিল ঘিরে আলোচনারত ছোট সম্পাদকীয় দল

কত শব্দের মধ্যে হেডলাইন রাখা উচিত?

এর কোনো একক মানদণ্ড নেই। St. Petersburg College-এর গাইড ৫ থেকে ১০ শব্দের কথা বলে (S4), কিন্তু অন্য প্রতিষ্ঠানের নিয়ম আলাদা হতে পারে।

বর্তমান কাল কি বাধ্যতামূলক?

না। ইংরেজি হেডলাইনে বর্তমান কাল ও সক্রিয় ক্রিয়া একটি প্রচলিত সম্পাদকীয় পরামর্শ (S1, S2), সব মাধ্যমের বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়।

কৌতূহলী হেডলাইন কি সবসময় খারাপ?

না। শর্ত হলো, হেডলাইন মূল লেখা যা সমর্থন করে তার মধ্যে থাকবে এবং নির্ভুলতা বজায় রাখবে (S3, S6)।

আজই করার একটি ধাপ

নিজের সাম্প্রতিক একটি হেডলাইন নিয়ে মূল লেখার পাশে রাখুন। তারপর এক লাইনে লিখুন, “এই হেডলাইন কী দাবি করছে?” সেই দাবি লেখায় না পেলে হেডলাইন বদলান।

সূত্র ও সম্পর্কিত লেখা

আরও তুলনা ও কেনাকাটার গাইড চান?

Atovia-তে আরও দেখুন →

আমাদের সম্প্রদায়ে যোগদান করুন

মন্তব্য করুন